অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটনঃ বিচিত্র এই পৃথিবী! বিচিত্র এই পৃথিবীর মানুষ! কেউ বোঝা মনে করে সন্তানকে ফেলে দেয় আবার কেউ একটি শিশু সন্তানের জন্য নীরবে চোখের পানি ফেলে। অপেক্ষা করে যুগের পর যুগ। আবার একটি সন্তানের জন্য হাহাকার করে স্বামী-স্ত্রী, পুরো পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন। সন্তানের জন্য কারো ভাঙ্গে সাজানো সংসার। পরিসমাপ্তি ঘটে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার। আবার কোনো পাষন্ড-পাষাণ জন্মের পর শিশুকে পলিথিনে মুড়িয়ে ফেলে দেয় ডাস্টবিনে কিংবা সিঁড়ির নিচে। আবার কোনো্ মানবতাবাদী মহান ব্যক্তি ডাস্টবিন থেকে কিংবা সিঁড়ির নিচ থেকে সেই শিশুকে কুড়িয়ে দত্তক হিসেবে পিতৃ পরিচয়ে বড় করে। কেননা,   মানুষ মানুষের জন্য। মানবতার সেবাই ইবাদত।

এসব চিরন্তন কথাগুলি আরো একবার প্রমাণিত হলো  কাপাসিয়া শহরে। ফেলে দেয়া নবজাতক এক শিশুকে নিজ সন্তানের মর্যাদা দিয়ে দত্তক নিলেন এক স্কুল শিক্ষিকা। নিষ্পাপ শিশু খুজে পেলো ঠিকানা। আবারো বিজয় হলো মানবতার।

গত বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭ টায় বৃষ্টির সময় উপজেলা শহরের কলেজ রোড এলাকায়  এক ৪তলা ভবনের সিঁড়ির নিচে কে বা কারা এক ফুটফুটে নবজাতক ছেলে শিশুকে ফেলে রেখে চলে যায়। নবজাতকের আর্তচিৎকার শুনে বাড়ি ও আশপাশের লোকজন এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে।  জন্মের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কোনো পাষন্ড শিশুটিকে সিঁড়ির নিচে ফেলে রেখে যায়।

পিতৃ পরিচয়হীন ফেলে দেয়া এ শিশুটিকেই মায়ের মমতায় কোলে তুলে নিলেন কাপাসিয়া হরিমঞ্জুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লাভলী ইয়াছমিন রত্না। লাভলীর স্বামী কৃষিবিদ মো: মাসুম মিয়া এশিশুকে পিতৃ পরিচয়ে লালন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজগর হোসেন খানের কাছে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটিকে দত্তক নেয়ার জন্য লিখিত আবেদন করেন কাপাসিয়া হরিমঞ্জুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লাভলী ইয়াছমিন রত্না। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উ্পস্থিতিতে দলিলের মাধ্যমে শিশুটিকে বাবা-মার পরিচয়ে মানুষ করার এবং সম্পদের উত্তরাধিকার করার অঙ্গীকার করে নবজাতককে বাড়ি নিয়ে যান লাভলী। নবজাতককে পেয়ে তারা দারুণ খুশি।

ইউনিয়ন পরিষদে নবজাতকের জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে। তার নাম রাখা হয়েছে আব্দুল আল্-আজিম ইজাদ। নিবন্ধনে তার পিতার নাম মো: মাসুম মিয়া এবং মাতার নাম লাভলী ইয়াছমিন রত্না লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সাত দিন পর তার নামে আকিকা দেয়া হবে বলে দত্তক গ্রহীতা লাভলী জানান।

Share.

Comments are closed.