“কাপাসিয়ায় শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষিতঃ শিক্ষক মনোজিত চন্দ্র গ্রেফতার”

ধর্ষকের বিচারের দাবীতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী

monojit kapasiaকাপাসিয়া (গাজীপুর) থেকে অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা শহরের হরিমঞ্জুরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কাব্যতীর্থ শিক্ষক মনোজিত চন্দ্র (৩৭) বিদ্যালয় সংলগ্ন কোচিং সেন্টারে ওই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর জনৈক মেধাবী এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে  অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছাত্রীকে ধর্ষনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসি বিক্ষুব্দ হয়ে উঠে।  প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোববার সকালে ক্লাশ বর্জন করে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ করে। ছাত্রীরা লম্পট শিক্ষককে বরখাস্ত ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান। থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ্ ধর্ষক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে। মনোজিত চন্দ্র উপজেলার কড়িহাতা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের খোকন চন্দ্র সরকারের পুত্র।

জানা যায়, কাপাসিয়া হরিমঞ্জুরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কাব্যতীর্থ শিক্ষক বহুল আলোচিত ও বহু অপকর্মের হোতা ১ সন্তানের জনক মনোজিত চন্দ্র সরকার বিদ্যালয় গেইট সংলগ্ন একটি কোচিং সেন্টার গড়ে তোলে। ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার দিকে কোচিং সেন্টারে ক্লাশ করতে আসলে কৌশলে পাশের রুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। বাড়ির মালিক সোহেল কাজী জানান, তার মা মমতাজ বেগম ধর্ষনের বিষয়টি টের পেয়ে শিক্ষককে আটক করে এবং তাদের কাছে ছাত্রী ধর্ষনের কথা স্বিকার করে। পরে বাড়ির মালিক হরিমঞ্জুরী স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেকের কাছে বিষয়টি জানান এবং ঘরের চাবি রেখে চর-থাপ্পর দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।  ঘটনার পর পরই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য একটি মহল চেষ্টা করে। ধর্ষনের শিকার ওই ছাত্রী লজ্জায় ৬ সেপ্টেম্বর  রোববার বিদ্যালয়ে আসেনি এবং এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। কিন্তু ধর্ষনের পরদিনই ওই শিক্ষক বীরদর্পে যথারীতি স্কুলে আসেন। থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ্ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা ওই ছাত্রীর বাড়িতে গেলে সে ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এ সময় তার বাবা-মা, আতœীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও কাঁদতে দেখা যায়। পরে বিকালে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহ হরিমঞ্জুরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ধর্ষক শিক্ষক মনোজিতকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনা শোনার পরও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বিদ্যালয়ে যাননি বলে অনেকেই অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এব্যাপারে কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আহসান উল্লাহ্ জানান, ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনায় শিক্ষক মনোজিত চন্দ্র সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক ধর্ষক শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি জরুরী বৈঠক করে তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে জানানো হলেও তিনি বিদ্যালয়ে আসেননি বলে প্রধান শিক্ষক জানান।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের কতিপয় সদস্য সকাল থেকেই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
ধর্ষক শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করে বিবৃতি দিয়েছেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো কাপাসিয়া শাখা, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা কাপাসিয়া শাখা, পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটি, ওর্য়াল্ড সেফ গার্ড কাপাসিয়া শাখা, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি, কাপাসিয়া শাখা, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি কাপাসিয়া শাখা, মানবাধিকার কাউন্সিল কাপাসিয়া উপজেলা শাখা।    উল্লেখ, মনোজিত চন্দ্র গত ৪ বছর যাবত এ বিদ্যালয়ে কাব্যতীর্থ শিক্ষক হিসাবে কাজ করছে। এর আগে সে কাপাসিয়া উপজেলার রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে একই বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। ওই বিদ্যালয়ে থাকা কালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত ও যৌণ হয়রানী সহ নানা অপকর্মের অভিযোগ ছিল। লাম্পট্যের এসব অভিযোগের কারনে বিদ্যালয় থেকে সে বরখাস্ত হয়েছিল বলে জানা যায়। এদিকে মনোজিত চন্দ্রের বর্তমানে দুটি স্ত্রী রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। গত ৪ বছর যাবত তার বিরুদ্ধে হরিমঞ্জুরী স্কুলের ছাত্রীদের নানা কৌশলে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয় সংলগ্ন বাড়ি ভাড়া করে কোচিং ব্যবসার অন্তরালে সে সুন্দরী ছাত্রীদের কৌশলে ফুসলিয়ে এনে যৌণ নির্যাতন করে থাকে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

মেয়েটি বর্তমানে কাপাসিয়া থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আগামী কাল সোমবার গাজীপুরে  বঙ্গতাজ ম্যাডিকেল কলেজে মেয়েটির পরীক্ষা করা হবে। মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করছে বলে থানা সুত্রে জানা যায় ।

৬/৯/১৫
কাপাসিয়া, গাজীপুর

Share.

Comments are closed.