।।শরিফ খান।।

আমার স্কুলের শেষ সীমানায়
বাড়ি ছিল সেই জামানায়
তিনতলা এক বাড়ি,
তিনতলার এক জানলা পাশে
থাকত শ্যামলা মেয়ে বসে
হাতে ছিল চুড়ি।

প্রতিকী ছবি

প্রতিকী ছবি

সেই বাড়ির সেই শ্যামলা মেয়ে
থাকত সদা বাইরে চেয়ে
আনমনা মন নিয়ে,
তিন বছর যে বৃথা গেল
সে নাহি সামনে এল
বলব কথা যেয়ে।

যখন আমি ক্লাস এইটে
একদিন সেই স্কুলের গেটে
দেখি তাকে চেয়ে,
বন্ধু আমার কলিম বেগে
বলল, তাকে ভালো লাগে
করবে তাকে বিয়ে।

ঐদিন ম্যাথ ক্লাসের পরে
সেই মেয়েটা সামনে এলে
এড়িয়ে যায় তাকে,
কোথায় তাকে দেখছি যেন
সেই মেয়েটা ক্লাসে কেন
শুধায় ক্লাসের ফাকে।

সামনে এসে বলল লাকি
আমার ক্লাসেই পড়ে নাকি
নামটা তার মুনা,
সামনে এল কঠিন ধাঁধাঁ
আমার মতো কয়টা গাধা
আছে হাতে গুণা।

একদিন স্কুল ছুটির পরে
সবাই ছুটল সবার ঘরে
মুনা চাইল আমার একটা নোট,
নোটটা সে হাতে পেয়ে
আমার দিকে ক্ষণিক চেয়ে
বলল হেসে, গুড গুড।

তারপর এক বছর গেল
মুনার সাথে ভাব যে হলো
জানল তা সবাই,
সব কথা সব সময়ে
সর্ম্পকটা সবার সাথে
কভু নাহি মানায়।

মুনার বাবা কালো বেটে
কথা শুনে গেলেন ক্ষেপে
টিফিন সময় ডাকেন অফিসে আমায়,
মাথার চুল খাড়া করে
তজনীটা বৃথা নেড়ে
জিগান, কয় টাকা তোর কামাই?

মানায় না তোর ভালোবাসা
তুই যে গরিব, তুই যে চাষা
আছে কোন মান?
মেয়ে নাইরে জগৎ জুড়ে?
আমার মেয়ের পিছে ঘুরে
বৃথা করবি জান।

কানটা দেব মলে রে তোর
জানটা করব কবজ
নিলে মুনার পিছু,
চেয়ারম্যানের এই গরম কথা
সয়ে নিলাম সকল ব্যথা
করে মাথা নিচু।

পরির শপথ হরির শপথ
পাশের বাড়ির ছেরির শপথ
শপথ আরো কিছু,
চাইব না তোর মেয়ের দিকে
মানুষ বানা তোদের ঝিকে
নিব না আর পিছু।

দুদিন পরে শপথ ভুলে
আবার মুনার দেখা পেলে
সামনে গিয়ে দাড়ায় হেসেহেসে,
আমায় ছাড়া জান যাবে তার
বাপের কথা শুনে কে কার?
আমার সাথে থাকবে ভালোবেসে।

মুনা-আমার সেই যে দেখা
কার কপালে কি যে লেখা
ভেবে আমি কাপা কাপা,
আমার-মুনার কঠিন পেলেন
মুনার বাবা জেনে গেলেন
খারাপ খবর থাকে না যে চাপা।

মুনার বাবা করেন রাগ
দৈয্য যে তার ভাঙল বাধ
অবাধ্য তার মেয়ে,
সব সমস্যার এক সমাধান
যদি মানি-ধণী পাত্র পান
দিবেন মুনার বিয়ে।

লক্ষ টাকার সোফায় বসে
কোটি টাকার হিসেব কষে
পাত্র করেন বাছাই,
আমি অধম চুপ্টি করে
ঘরের কোণে গাপ্টি মেরে
নিজের পড়া গোছাই।

তারপর এক বষা দিনে
আমার মুনার হদয় বীণে
বাজল বিয়ের সুর,
আমার কথা সবই ভুলে
মুনা সেদিন গেল চলে
গেল বাজিতপুর।

শ্বশুর যে তার চামার কসাই
ভদ্র গোছের পেল জামাই
মেনে নিল সবই।
সেই দূঃখ কোথা রাখি
ভাবতে ভাবতে সেই যে আমি
হয়ে গেলাম কবি।

একযুগ তো বৃথা গেল
একদিন মুনা আবার এল
আমার মক্কেল হয়ে,
তার বাবার হলো জেল
বলতে গিয়ে পড়ল জল
লালচে গাল বেয়ে।

চেয়ারম্যানের চেয়ার ঘূণে খেল
তারপর তাকে জেলে দিল
জামিন দিতে আছে নাকি বারণ।
সেই জেলেরই ঘানি টেনে
মুনার বাবা সবই মেনে
হলেন তিনি অতি সাধারণ।

তিনি আমায় স্বরিলেন যে
মা বলেন, দেখনা ও রে
জেলে কেন লোকটি?
অতীত কথা না ঘাটিয়ে
আইনের সব প্যাচ কাটিয়ে
পেলেন তিনি মুক্তি।

মুনার বাবা পেয়ে ছাড়া
বের করল কে বা কারা
সবই জেনে গেলেন,
সামনে এসে মা-বাবার
বলেন, হিরের টুকরো ছেলে তোমার
ছেলে একটা ট্যালেন।

বাবা হাসেন মা কাশেন
বোনে বলে আঙ্কেল বসেন
দিব মিষ্টি পান?
তিনি বলেন, ছাড় তোমার পান
এই যাত্রায় বেচে গেল জান
কোথায় তোমার ভাইজান?

যা করেছ আমার জন্য
জন্ম তোমার হউক ধন্য
তোমায় আমি ছেলের মতো জানি,
কি সব বলেন আঙ্কেল আমার
নয়তো আমি হিরের-সোনার
চাই হতে মাটির মানুষ আমি।

Share.

Comments are closed.