তাজুল ইসলামঃ রাজধানী ঢাকার আশেপাশের প্রাচীন ইতিহাস স্থাপত্যগুলোর তালিকার দিকে চোখে পড়ে ভাওয়াল রাজবাড়ী ও ভাওয়াল শ্মশানঘাট। কিন্তু দিন দিন অবহেলা আর অযত্নে হারিয়ে যাচ্ছে গাজীপুর অন্যতম ঐতিহাসিক নির্দশনটি।

ভাওয়াল রাজার শশ্মান গহাট

ভাওয়াল রাজার শশ্মান ঘাট।

গাজীপুরে ভাওয়াল রাজাদের অন্যতম কীর্তি ভাওয়াল শ্মশানঘাট। এই শ্মশান মঠ গাজীপুর ও এর আশপাশের মানুষদের কাছে অবসর যাপনের অন্যতম স্থান।

গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্ব দিকে এই শ্মশানঘাট অবস্থিত। কিছুদিন আগেও নানা গাছ গাছালির ভীড়ে শ্মশান ভূমির প্রবেশ স্থল থেকে মঠ গুলো দেখা যেত না। কিন্তু এখন গাছগুলো কেটে ফেলার ফলে সামনে পায়ে হেটে কয়েকগজ এগুলেই চোখে পড়ে বিষ্ময়কর স্থাপত্য।

১৯৫১ সালে কালী নারায়নের সময়ই ভাওয়াল শ্মশান মঠ নির্মিত হয়। আটটি মঠের মধ্যে সামনের তিনটি মঠের নির্মানশৈলী সাধারন। দেখতে প্রায় একই রকম। কিন্তু বাকি পাচটি মঠের নির্মানশৈলী চিত্তাকর্ষক। এদের মধ্যে একটি মঠ সবচেয়ে উচু। সবচেয়ে বড় মঠটি নির্মিত হয়েছে ভাওয়াল জমিদারির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণ নারায়ন রায়ের উদ্দেশ্যে। উনিশ শতকের শেষের দিকে নির্মিত এই মঠ গুলো কালের সাক্ষী হয়ে আজও টিকে আছে।

ভাওয়াল রাজার শশ্মান ঘাট

ভাওয়াল রাজার শশ্মান ঘাট

স্থানীয়রা জানান, পরিকল্পিত সংরক্ষনের অভাবে মঠগুলোর দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। কোন কোনটির স্মৃতি চিহ্ন টুকুও মুছে গেছে। অসাধারণ সব নকশা গুলো প্রায় মুছে যেতে বসেছে।শ্মশানঘাটের পুর্বপাশেই ছোট পুকুর। সংস্কারের অভাবে এর ঘাটটি ভেঙে গেছে,স্মৃতি টুকু পড়ে আছে কেবল।

শ্মশানঘাটের পূর্ব দিকে চিতা। এখানে শবদাহ করা হয়। তার পূর্ব দিক দিয়েই চিনাই নদী বয়ে যেত। এখন তার চিহ্ন মাত্রও নেই। চিলাই নদীর পাশে এবং শ্মশান পাশে বলেই এর নাম শ্মশানঘাটের মঠ।

স্থানীয়দের দাবী, প্রশাসনিক কতৃপক্ষের কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমেই গাজীপুরের ভাওয়াল রাজাদের অন্যতম কীর্তি এই শ্মশানঘাটটি সংরক্ষন করা প্রয়োজন।

জিটি ২৮/০৯/১৬/০০৭

Share.

Comments are closed.