জাহিদ হাসান সুমন:

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

প্রেমের দুই বছরের মাথায় ছোট খাট একটা
ব্যাবসা করে মোটামুটি ভালই টাকা পয়সা ইনকাম করতাম। বাবার কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়ার দরকার পড়ত না । তাই গার্ল ফ্রেন্ড নিয়ে বেশ ভালই ছিলাম। বলতে আপত্তি নেই যে সময়গুলো অনেক রঙিন ছিল।

আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে একটু বলে রাখি, আমাদের দু জনের বাড়িই শ্রীপুর। আর আমাদের সম্পর্ক ২০১১ সালে শুরু হয় নিজ উপজেলা থেকেই। চট্রগ্রাম একটা পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা প্রায় শেষের দিকে আর সে মাত্র স্থানীয় শ্রীপুর কলেজে ইন্টার এ পড়ছে। মাঝে মাঝে বাড়ি আসলেই শ্রীপুর এক দুলাভাইয়ের কম্পিউটারের দোকানে বসতাম। আমি ছুটিতে বাড়িতে আসলেই এলাকাতে সময় কম দিতাম কারন এলাকাতে সময় কাটানোর জন্য কাওকে পেতাম না তাই দুলাভাই এর দোকানে বসতাম এতে তারও উপকার হতো আর আমার ও সময় কাটতো। এর মধ্যেই দেখতাম একটা মেয়ে প্রায় সময় মার্কেটে আসত। আমি ও দেখতাম। প্রথনে দুস্টামি, পরে ভাল লাগা। যে কোনো উপায়ে এক বন্ধুকে দিয়ে তার ফোন নাম্বার সংগ্রহ করি। এরপর শুরু আমার জীবনের এক রঙিন অধ্যায়। যাক সেদিকে গিয়ে আপনাদের মনযোগ নস্ট করতে চাই না।
এরপর অনেক স্বপ্ন ভরা চোখে কেটে যায় প্রায় ২ বছর।

গার্ল ফ্রেন্ডের পিছনে যত টাকা খরচ করেছি তা ভাবলে এখন মাঝে মাঝে আতকে উঠি । আমার গার্ল ফ্রেন্ড আবার দুইজনকে ভালবাসত।
আমাকে এবং ওর পরিচিত আরেক ছেলেকে । আমি ওকে খুব বেশি সময় দিতে পারতাম না। প্রথমদিকে আমার নতুন ব্যাবসা আর পড়াশোনা নিয়েই সময় কেটে যেতো আমার। তার কিছুদিন পর আমার ফাইনাল পরিক্ষা শেষ হয়। তার ও ফাইনাল পরিক্ষা শেষ হয়।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আর সেই সময় ই বুজতে ও জানতে পেরেছিলাম সে আস্তে আস্তে আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তার জন্যে আমি কি না করেছি?
“জান ফ্লেক্সি লাগবে। দিয়েছি। জান এক হাজার টাকা লাগবে। দিয়েছি। জান একটা জামা চয়েস করেছি…..। কিনে দিয়েছি । জান আমার দুই বান্ধবি তোমাকে দেখবে। তাই মাওনা চৌরাস্তার দামি রেস্টুরেন্টে বসে পরিচয় করিয়ে দিতে এসেছ। বসেছি খেয়েছি বিল মিটিয়েছি। আমি আক্ষেপ করছি না সেই দিন গুলির কথ ভেবে কিংবা সে কেনো এমন করল তা আপনাদেরকে জানিয়ে কোন অভিযোগও করছি না ।

আমি ভাগ্যে বিশ্বাসী নই, নই আমি আবেগে বিশ্বাসী । জীবন মানে যুদ্ধ । যুদ্ধের ময়দানে আবেগ থাকলে চলে না । যুদ্ধে হারতেও
পারি ,জিততেও পারি । যদি হারি তবে নিজের ভুল সংশোধন করে আবার যুদ্ধ করবো । যতদিন বেঁচে থাকবো এ যুদ্ধ চলবে ..

কিছুদিন আগপর্যন্ত চোখে রঙ্গিন চশমা ছিলো ।
দুনিয়াটাকে লাল নীল বেগুনি লাগতো । তার পর যেদিন জানলাম আমার গার্ল ফ্রেন্ড দুটো প্রেম এক সাথে করে । জানিয়ে দিয়েছিলো ওরই বিস্বস্ত বান্ধবী ।

আমার জান ওর বান্ধবী থেকে দূরে থাকতে বলতো । এবং কেনো দূরে থাকতে বলতো তা তো বুঝতেই পারলাম । সে দুটা প্রেম করতো এটা জেনেও আমি দেড় বছর প্রেম চালিয়ে গেছি । আগে যা দিতাম তার চেয়ে আরও
বেশি গিফট করতাম । শিকারকে দেখতাম কত দূর দৌড়াতে পারে ।

তার অভিনয় আর নাটকবাজী আমি খুব
উপভোগ করতাম । খুব মজা লাগতো ।
মাঝে মাঝে বিছানায় একা একা শুয়ে থেকে ৫০০/১০০০ টাকার নোট উলটিয়ে পাল্টিয়ে দেখতাম । কি আছে এতে ? একটা কাগজে ৫০০/১০০০ সংখ্যাটি ছাপা দেওয়া । তাতেই
কি পাওয়ার । আমি জানি টাকা থাকলেই সুখ
আসে না । টাকাতে সব হয় না । তবে এটা আপনাকে মানতেই হবে প্রেম টাকা ছাড়া হয় না । আর নূন্যতম টাকা ছাড়া বেঁচে থাকা যায় না । অভাব যখন দরোজায়
এসে দাড়ায় ,ভালোবাসা তখন
জানালা দিয়ে পালায় । আর আমিও এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছি জীবন থেকে……………

Share.

Comments are closed.